PRATAY

Success Stories

shefali ss thumb

Shefali Begum

Matlab Dakkhin, Chandpur

The Story of Cattle Fattening Success

After marrying Alam Baidya, Shefali Begum’s family life was consumed by hardship and poverty. With two young sons and a husband whose earnings from herbal practice were barely enough, survival was a daily struggle. Their village remains submerged under floodwater for seven to eight months of the year, leaving almost no opportunity for income. In desperation, Shefali would regularly visit the local Chairman’s office, hoping to find any kind of work — but nothing came her way.

That changed when the Upazila LGBD Office sought female workers for road maintenance under the RRMCP-2 project. The Chairman enrolled Shefali. While the project was implemented through the Local Government Engineering Department, the NGO Pratyay (Promotional Resources Advocacy Training Action Yard) took responsibility for training the women in life skills and income generation. Pratyay delivered 17 months of life quality training followed by 10 months of skills development training.

Inspired by Pratyay’s training, Shefali took a turning point. On the advice of facilitator Md. Rahmatullah, she acquired a cow on a share-farming arrangement and purchased a dairy cow with an NGO loan. She now sells two liters of milk daily to neighbouring households, earning 120 taka per day — enough to cover feed costs, loan repayments, and basic household needs.

“I now understand that raising two cows and raising five cows takes the same effort and time. So I have decided — even if I must take another loan — I will buy one more dairy cow.”

She has also gained knowledge on nutrition, maternal and child care, natural disaster preparedness, women’s rights, sanitation, and community health services. Notably, both of her sons have now started attending school.

“This project has taught helpless, destitute women like us how to live. I will try to do this project’s work well so that it stays with us for a long time.”

If she received a lump sum of BDT 72,000, she would immediately buy an Australian dairy cow capable of producing 10–12 liters of milk per day.

গরু মোটা তাজাকরণে শেফালী বেগমের সফলতার গল্প

আরইআরএমপি-২ সুবিধাভোগীর নাম: শেফালী বেগম
স্বামীর নাম:
মো: আলম বৈদ্য
গ্রাম: আশ্চিনপুর, পোষ্ট: আশ্চিনপুর, ইউনিয়ন: দক্ষিণ নায়েরগাঁও, উপজেলা: মতলব দক্ষিণ, জেলা: চাঁদপুর।

আলম বৈদ্যের সাথে বিয়ের পরে শেফালী বেগমের সংসার অভাব আর অনটনের মধ্যে চলছিল। আর্থিক দৈন্যতা তাকে কোন দিনই পিছু ছাড়েনি। এরই মধ্যে শেফালী দুইটি ছেলে সন্তারে জন্ম দেয়। আলম বৈদ্য কবিরাজি করে যা পায় তা দিয়ে সংসার চালানো কোন অবস্থায়ই সম্ভব নয়। তার মধ্যে শেফালীর গ্রাম বছরের ৭/৮ মাস পানির নীচে থাকে। কাজ-কম্মের কোন সুযোগ নেই। শেফালী বেগম চেয়ারম্যানের অফিসে গিয়ে প্রায়ই বসে থাকে একটা কাজের জন্য কিন্তু চেয়ারম্যানের নিকটও কোন কাজ নেই। হঠাৎ একদিন উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকে গ্রামীন কাঁচা রাস্তা মেরামতের জন্য চেয়ারম্যানের নিকট মহিলা কর্মী চাওয়া হলে চেয়ারম্যান শেফালীকে আরইআরএমপি-২ প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত করেন। প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলেও মাঠ পর্যায়ে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা প্রমোশনাল রিসার্স এ্যাডভোকেসী ট্রেনিং এ্যাকশন ইয়ার্ড (প্রত্যয়) উক্ত মহিলা কর্মীদের জীবন মান ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নেয়। প্রত্যয় সংস্থা প্রথম ১৭ মাস জীবন মান উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেয় এবং পরবর্তী ১০ মাস দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেয়। প্রত্যয় এর জীবন দক্ষতা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে একসময় শেফালী বেগম তার জীবন পরিবর্তনে উৎসাহিত হয়ে উঠে। প্রত্যয় এর প্রতিটি প্রশিক্ষণে তিনি অংশগ্রহন করেন এবং গরু মোটাতাজাকরণ বিষয়টি তিনি ভালোভাবে রপ্ত করেন। প্রত্যয় এর ফেসিলিটেঁর মো: রহমতউল্ল্যাহ’র পরামর্শে শেফালী একটি গরু বর্গা নেয় এবং এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আরেকটি গাভি কেনে। গাভিটিতে যা দুধ হয় তার কিছু অংশ নিজেদের প্রয়োজনে রাখে আর বাকি দুই লিটার স্থাণীভাবে বিভিন্ন বাড়িতে রোজ হিসেবে দেয় এতে তার প্রতিদিন ১২০ টাকা পায় যা দিয়ে গরুর খাবার, এনজিওর ঋণের সপ্তাহ ও নিজেদের সাধারণ খরচ মিটাতে সক্ষম হয়। শেফালী বলেন, আমি এখন বুঝে গেছি দুইটা গরু পালন করতে যে সময় লাগে পাঁচটা গরু পালন করতেও একই রকম সময় লাগে তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ঋণ করে হলেও আরও একটা গাভী কিনব। শেফালী অভাবের সাথে যুদ্ধ করে জয়ী হওয়ার শক্তি অর্জন করতে চেষ্টা করছে| এয়াড়াও শেফালী বেগম জীবন দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তার মধ্যে হলো- সামাজিক ঝসড়া বিবাদ হ্রাসকরণ, নবজাতক শিশুর খাদ্য, গর্ভবতী মা ও কিশোর-কিশোরীর খাদ্য, যত্ন ও পরিচর্যা, রেফারেল হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্যোগ মোকাবেলাঃ অগ্নিকান্ড, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণীঝড়, নারী নির্যাতন ও প্রতিরোধের আইন, রাস্তায় চলাচলের নিয়ম, খাদ্য ও পুষ্টি এবং মা ও শিশুর পরিচর্যা ও নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছে এবং ইতিমধ্যেই তিনি জীবন মানের বেশ খানিকটা পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে| এখন তার দুইটি ছেলেই স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। তার কথায় এই প্রকল্প আমাদের মতো নিঃশ্ব সহায় সম্বলহীন নারীদের বাঁচতে শিখিয়েছে। তাই আমি এই প্রকল্পে আমাদের যে কাজ তা সঠিকভাবে করতে চেষ্টা করি যাতে এই প্রকল্প আরও দীর্ঘদিন আমাদের মাঝে থাকে।

এককালীন টাকা পেয়ে কি করবেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এক কালীন ৭২,০০০/- টাকা পেলেই সাথে সাথে একটি অষ্ট্রেলিয়ান গাভী কিনব যাতে কমপক্ষে ১০/১২ লিটার দুধ পাই।

Building a Future Through Skills

Anjali Rani Das grew up in poverty and married into a similarly disadvantaged family. Her husband, a rickshaw puller, struggled to earn a stable income. Over time, economic hardship forced him to stop working, leaving the family in crisis.

With children to support and no income, Anjali faced severe financial distress. Like many others in her situation, she relied on loans and struggled to meet basic needs.

Her life changed when she was selected for the AIRMP-2 project. Through PROTYOY’s training programs, she participated in:

  • 17 life skills training sessions
  • 10 income-generating activity (IGA) trainings

Inspired by the training, Anjali initiated fish farming in three ponds with her husband. Step by step, her income increased, food security improved, and her children were able to continue their education.

Now, Anjali is planning to expand her livelihood by leasing more ponds and investing her savings (BDT 72,000) into sustainable income-generating activities.

অঞ্জলী রাণী দাসের এক জীবনগাথা সাফল্য

আরইআরএমপি-২ সুবিধাভোগীর নাম: অঞ্জলী রাণী দাস
স্বামীর নাম:
মৃত. বিধান চন্দ্র দাস
গ্রাম: চান্দের বাগ, পোষ্ট: কামরাঙ্গা বাজার, উপজেলা: চাঁদপুর সদর, জেলা: চাঁদপুর।

দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা অঞ্জলীর বিয়ে হয় বিধান চন্দ্র দাসের সাথে। বিধান দাসও দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বিধান দাসের কোন জমি নাই। ভেরিবাধের জমিতে বসবাস করে আর রিক্সা চালিয়ে জীবন ধারণ করেন। যুগের পরিক্রমায় আর বিজ্ঞাণের এ যুগে রিক্সায় মানুষ উঠতে না চাইলে একসময় রিক্সা চালানো বন্ধ করে দেন বিধান। কিন্তু পেট তাকে তাড়া করে বেড়ায়। আত্মিয় স্বজনেরাও একই রকম। ছেলে মেয়ে নিয়ে অঞ্জলী পরে যান অখৈ সাগরে। যেন পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আর যেন কোন অবলম্বনই নাই। তাঁর জীবনে ধেয়ে আসতে থাকলেঅ হতাশার অমানিশার অন্ধকার। কিভাবে তিনি ছেলে মেয়েদের খাবার পোষাকের যোগান দেবেন লেখাপড়া করাবেন| অঞ্জলী ধার দেনা করে চেয়ে চিন্তে অতি কষ্টে অনাহারে অর্ধাহারে জীবন চালাতে শুরু করেন। এমন সময় স্থানীয় মেম্বরের মাধ্যমে চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাত করলে চেয়ারম্যান একটা কাজের ব্যবস্থা করে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। কিছুদিন বাদে আরইআরএমপি-২ লোকের প্রয়োজন দেখা দিলে চেয়ারম্যান তাঁকে উক্ত প্রকল্পে কাজ করার প্রস্তাব করেন। অঞ্জলীর যেন মহা সাগরের অতল গহ্বর থেকে এক টুকরো আলোর ঝিলিক দেখতে পান। তাই এই আলোটুকুকে ভরসা করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হলেও বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা প্রমোশনাল রিসার্স এ্যাডভোকেসী ট্রেনিং এ্যাকশন ইয়ার্ড (প্রত্যয়) উক্ত মহিলা কর্মীদের জীবন মান ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নেয়। অঞ্জলীর সেই স্বপ্নকে পুঁজি করে আর প্রত্যয় এর জীবন দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে একসময় জীবন পরিবর্তনে উৎসাহিত হয়ে উঠে। প্রত্যয় সংস্থা ১৭টি জীবণ দক্ষতামূলক ও ১০ টি আয় বর্ধণমূলক প্রশিক্ষণ করায় যার প্রতিটি প্রশিক্ষণে তিনি অংশগ্রহন করে শিক্ষালব্দ জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে তির তির করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। প্রশিক্ষণে অঞ্জলী মাষ চাষে উদবুদ্ধ হয়ে স্বামী বিধানকে সঙ্গে নিয়ে ৩টি পুকুরে মাছ চাষের উদ্যোগ গ্রহন করেন। তিনি ইতিমধ্যেই জীবন মানের বেশ খানিকটা পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে যেমন-একটু একটু করে আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছে, অবাব অনেকটা কমেছে, ছেলে-মেয়েদেরকে স্কুলে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।

অঞ্জলীর পরবর্তী ইচ্ছা এক কালীন ৭২,০০০/- টাকা পেলে সেই টাকায় আরও কিছু পুকুর লিজ নেবেন এবং একটি জাল ক্রয় করবেন যাতে তার প্রদিদিন আয় রোজগারের একটা ব্যবস্থা হয়।

anjali ss thumb

Anjali Rani Das

Chandpur Sadar, Chandpur
pervin ss thumb

Parvin Begum

Faridganj, Chandpur

Rising Above Violence

Parvin Begum’s life was marked by hardship and abuse. After marriage, she endured continuous physical and mental violence from her husband and in-laws. Eventually, she made the difficult decision to leave and return to her parental home.

Without financial support, she struggled to survive. Later, she joined the AIRMP-2 project, where she received both employment and training opportunities.

Through PRATAY’s support, Parvin:

  • Earned a monthly income with a savings component
  • Received life skills and livelihood training
  • Gained confidence and social awareness

She started poultry farming based on the skills she learned. Today, she not only earns an income but also advises other women in her community, especially on issues of violence and rights.

Parvin proudly says that the project showed her a new path to survival and dignity. She now dreams of opening a small poultry farm with her savings.

তথ্য প্রদানে পারভিন বেগমের সফলতা

আরইআরএমপি-২ সুবিধাভোগীর নাম: পারভিন বেগম
স্বামীর নাম:
স্বামী পরিত্যাক্তা
গ্রাম: কড়ইতলি পোষ্ট: কড়ইতলি বাজার, ইউনিয়ন: ৮ নং পাইকপাড়া উপজেলা: ফরিদগঞ্জ, জেলা: চাঁদপুর।

পারভিন বেগম বিয়ে হয় পাশের গ্রামে। বিয়ের পরেই তার স্বামী তাঁকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছিল। কখনো মানসিক নির্যাতন আবার কখনো শারিরিক নির্যাতন। তার স্বামী নেশাগ্রস্থ ছিল বলে প্রায় প্রতিদিনই যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। এসব নির্যাতনে তার স্বামীর মা, বাবা, ভাই ও বোনেরাও সমভাবে নির্যাতন শুরু করে। তাই পারভিন বেগম সিদ্ধান্ত নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসলেন এবং চেয়ারম্যানের নিকট বিচার দিলেন| চেয়ারম্যান সাহেব এর উপস্থিতিতে পারভিন বেগম ডিভোর্স নিলেন। বাবার অভাবে সংসারে পারভিন বেগম অতি কষ্টে দিনাতিপাত করতে লাগলেন। পারভিন বেগম চেয়ারম্যান সাহেবকে বললেন যে স্যার আমাকে একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিবেন। চেয়ারম্যন সাহেবও বললেন যদি আমার কাছে কোন কাজের ব্যবস্থা হয় তবে তোমাকে জানাবো। এরই মধ্যে একদিন উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকে গ্রামীন কাঁচা রাস্তা মেরামতের জন্য চেয়ারম্যানের নিকট মহিলা কর্মী চাওয়া হলে চেয়ারম্যান পারভিন বেগমকে আরইআরএমপি-২ প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত করেন। প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলেও মাঠ পর্যায়ে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা প্রমোশনাল রিসার্স এ্যাডভোকেসী ট্রেনিং এ্যাকশন ইয়ার্ড (প্রত্যয়) উক্ত মহিলা কর্মীদের জীবন মান ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নেয়। এই প্রকল্পের নিয়ম মোতাবেক তিনি মাসে ৪৫০০/- টাকা বেতন পাওয়ার কথা থাকলেও মাসে নগদ ৩০০০/- টাকা হাতে পান এবং তার সঞ্চয় হিসেবে প্রদি মাসে ১৫০০/- টাকা ব্যাংকে জমা থাকে যাতে প্রকল্প শেষে এককালীন ৭২০০০/- টাকা পেলে সে টাকায় কিছু একটা করতে পারেন। উক্ত প্রকল্পে প্রত্যয় সংস্থা প্রথমে ১৭ মাস জীবন মান উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেয় তার মধ্যে হলো- সামাজিক ঝসড়া বিবাদ হ্রাসকরণ, নবজাতক শিশুর খাদ্য, গর্ভবতী মা ও কিশোর-কিশোরীর খাদ্য, যত্ন ও পরিচর্যা, রেফারেল হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্যোগ মোকাবেলাঃ অগ্নিকান্ড, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণীঝড়, নারী নির্যাতন ও প্রতিরোধের আইন, রাস্তায় চলাচলের নিয়ম, খাদ্য ও পুষ্টি এবং মা ও শিশুর পরিচর্যা ও নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার ইত্যাদি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের জন্য যাবতীয় পরামর্শ প্রদান করেন। বাল্যকালে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ালেখা শিখেছে বিধায় পারভিন বেগম সহজেই প্রশিক্ষণের বিষয়সমূহ রপ্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রত্যয় থেকে প্রশিক্ষালব্দ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তিনি তার প্রতিবেশীদেরকে উক্ত বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা শুরু করেন। বিশেষকরে নারী নির্যাতনের বিষয় তিনি বেশ সচেতনতার সাথে প্রতিবেশী নারীদেরকে পরামর্শ দিতে থাকেন এবং তার গ্রামে নারী নির্যাতনের মাত্রা আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। পাশাপাশি প্রত্যয় সংস্থা প্রকল্প মেয়াদের শেষ ১০ মাস দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করে। প্রত্যয় এর প্রশিক্ষণ দক্ষতা কাজে লাগিয়ে পারভিন বেগম তার জীবন পরিবর্তনে উৎসাহিত হয়ে উঠে। প্রত্যয় এর প্রতিটি প্রশিক্ষণে তিনি অংশগ্রহন করেন এবং হাঁস-মুরগী পালন বিষয়টি তিনি ভালোভাবে রপ্ত করেন। প্রত্যয় এর ফেসিলিটেঁর মো: হারুনুর রশিদ এর পরামর্শে পারভিন বেগম হাঁস-মুরগী পালন শুরু করেন। পারভিন বেগম বলেন, আমি একসময় নাখেয়ে থেকেছি কিন্তু আরইআরএমপি-২ প্রকল্প আমাকে বাঁচার পথ দেখিয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি জীবন মানের বেশ খানিকটা পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। এখন পারভিন বেগম আবার ঘর বাধার স্বপ্ন দেখেন। তার কথায় এই প্রকল্প আমাদের মতো নিঃশ্ব সহায় সম্বলহীন নারীদের বাঁচতে শিখিয়েছে। তাই আমি এই প্রকল্পে আমাদের যে কাজ তা সঠিকভাবে করতে চেষ্টা করি যাতে এই প্রকল্প আরও দীর্ঘদিন আমাদের মাঝে থাকে।

এককালীন টাকা পেয়ে কি করবেন প্রশ্ন করলে পারভিন বেগম বলেন, এক কালীন ৭২,০০০/- টাকা পেলে আমি একটি ছোট মুরগীর খামার করার স্বপ্ন দেখি।

পিঠা তৈরিতে মাহামুদা বেগম সফল নারী

আরইআরএমপি-২ সুবিধাভোগীর নাম: মাহামুদা বেগম
স্বামীর নাম:
মো: খোরশেদ আলম
গ্রাম: বদরপুর, পোষ্ট: টোড়া মুন্সির হাট, ইউনিয়ন: ৪ নং সুবিদপুর, উপজেলা: ফরিদগঞ্জ, জেলা: চাঁদপুর।

মাহামুদা বেগমের, খোরশেদ আলমের সাথে বিয়ে হয় আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে। তখন খোরশেদ আলমের অবস্থা মোটামুটি ভালো থাকলেও বিদেশে যাওয়ার জন্য জায়গা-জমি বিক্রি করে দালালের খপ্পরে পরে তার সমস্ত টাকা মার খায় এবং বিদেশে যেতে নাপারায় তিনি নেশাগ্রস্ত হয়ে পরে। সংসারে নেমে আসে ঘন অমানিশার অন্ধকার। এর পরে মাহামুদা বেগম ছেলে-মেয়ে নিয়ে অবাব আর অনটনের মধ্যে দিনাতিপাত করতে থাকে। স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যন তার বাড়িতে মাহামুদা বেগমকে কাজের ব্যবস্থা করে দেন এবং বলেন আপতত এখানে কাজ কর আর যদি অন্য কোথাও কাজের ব্যবস্থা হয় তবে সেখানে তোমাকে একটা কাজের ব্যবস্থা করে দেব। এরই মধ্যে উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকে আরইআরএমপি-২ প্রকল্পে রাস্তা মেরামতের জন্য লোক চাইলে চেয়ারম্যান সাহেব মাহামুদা বেগমকে সেই কাজে ভর্তি করে দেন। প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলেও মাঠ পর্যায়ে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা প্রমোশনাল রিসার্স এ্যাডভোকেসী ট্রেনিং এ্যাকশন ইয়ার্ড (প্রত্যয়) উক্ত মহিলা কর্মীদের জীবন মান ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নেয়| মাহামুদা বেগম আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। প্রত্যয় সংস্থা মহিলা কর্মীদেরকে ১০ মাস আয়বর্ধণমূলক (IGA) প্রশিক্ষণ যেমন: গরু মোটাতাজাকরণ, হাঁস পালন, মাছ চাষ, সোনালী মুরগী পালন, গাভী পালন ও ছাগল পালন, বৃক্ষ রোপন ও বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ, চিড়া মুড়ি, চিতৈ পিঠা ও ভাঁপা পিঠা তৈরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। শিক্ষালব্দ জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে সংসারে আয় বাড়ানোর জন্য প্রত্যয় এর ফেসিলিটেঁর মো: হারুনুর রশিদ এর পরামর্শে কাজের ফাঁকে মুন্সিরহাট বাজারে চিতৈ পিঠা ও ভাঁপা পিঠা তৈরি করে বিক্রির ব্যবস্থা করেন। মাহামুদা বেগম প্রতিদিন গড়ে ৬০০/৭০০ টাকা বিক্রি করেন। তাতে তার লাকড়ি, চাল ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে প্রায় দিনে ৩০০/- টাকা আয় হয়। এই টাকায় তার সংসার বেশ ভালো ভাবেই চলে যাচ্ছে।
এছাড়াও প্রত্যয় সংস্থা থেকে ১৭মাস জীবণ দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ গ্রহন করেণ প্রশিক্ষণগুলোর মধ্যে- নবজাতক শিশুর খাদ্য, গর্ভবতী মা ও কিশোর-কিশোরীর খাদ্য, যত্ন ও পরিচর্যা, রেফারেল হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্যোগ মোকাবেলাঃ অগ্নিকান্ড, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণীঝড়, নারী নির্যাতন ও প্রতিরোধের আইন, রাস্তায় চলাচলের নিয়ম, সামাজিক ঝসড়া বিবাদ হ্রাসকরণ, খাদ্য ও পুষ্টি এবং মা ও শিশুর পরিচর্যা ও নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে তিনি ভালোভাবে জানতে পেরেছেন। তাই পিঠা তৈরি ও বিক্রির কাজ তিনি বেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার সাথে করে থাকেন। এতে তার বিক্রি দিনি দিন বেড়ে চলছে। তিনি বলেন এই প্রকল্পটি আমার কাছে দেবদূত হিসেবে এসেছে আর যেসব স্যারেরা আমাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে সেই সব স্যারদের কাছেও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।

মাহামুদা বেগমের পরবর্তী ইচ্ছা এক কালীন ৭২,০০০/- টাকা পেলে সেই টাকায় তার স্বামীকে নিয়ে মুন্সিরহাট বাজারে একটা দোকান নিতে চায় যাতে চা, বিস্কুট, বিভিন্ন প্রকারের পিঠা ও অন্যান্য জিনিস বিক্রির ববস্থা হয় এবং এই দোকানের মাধ্যমে তিনি অতীত জীবনের দুঃখ কষ্টের দিন ভুলে যেতে চায়।

mahmuda begum

Mahmuda Begum

Faridganj, Chandpur
shahina begum

Shahina Begum

Chandpur Sadar, Chandpur

From Despair to Dignity

Shahina Begum, a resident of Chandpur Sadar, was born into a poor family and later married into another financially struggling household. Her husband was the sole earning member, but after his sudden death, Shahina was left alone to care for her children with no source of income.

With no land, no savings, and no support system, she fell into extreme hardship. Feeding her children and continuing their education became nearly impossible. For some time, she survived through irregular support from relatives, but eventually, she had to rely on loans and endure days of hunger.

At this critical moment, through the support of local representatives, Shahina was enrolled in the AIRMP-2 project, implemented by the Local Government Engineering Department (LGED) with training support from PRATAY.

Through PRATAY’s structured life skills and livelihood training, Shahina gained knowledge in:

  • Nutrition and childcare
  • Maternal health
  • Disaster preparedness
  • Hygiene and sanitation
  • Social awareness and rights

Gradually, she began applying this knowledge in her daily life. With confidence and determination, she improved her income, reduced her financial vulnerability, and ensured her children returned to school.

Today, Shahina is no longer trapped in extreme poverty. She dreams of investing her savings (BDT 72,000) to start a small business in the local market, securing a sustainable future for her family.

শাহিনা বেগমের স্বপ্নগাথা সাফল্য

আরইআরএমপি-২ সুবিধাভোগীর নাম: শাহিনা বেগম
স্বামীর নাম:
মৃত. জামাল বেপারী
গ্রাম: মনিহার, পোষ্ট: কামরাঙ্গা বাজার, উপজেলা: চাঁদপুর সদর, জেলা: চাঁদপুর।

হত দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা শাহিনার বিয়ে হয় একই গ্রামের জামাল বেপারীর সাথে। জামাল বেপারীও দরিদ্র পরিবারের সন্তান। জামাল বেপারীর ঘরের জায়গাটুকু ছাড়া আর কোন জমি নাই। এরই মধ্যে শাহীনার স্বামী জামাল বেপারী মারা যান। ছেলে মেয়ে নিয়ে শাহীনা পরে যান অখৈ সাগরে| কেননা তার স্বামীই ছিলেন একমাত্র উপার্জণক্ষম ব্যক্তি। পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আর যেন কোন অবলম্বনই রইলনা। তাঁর জীবনে নেমে এলো হতাশার অমানিশার অন্ধকার। কিভাবে তিনি ছেলে মেয়েদের খাবার পোষাকের জোগান দেবেন লেখাপড়া করাবেন। কিছুদিন আত্মীয়-স্বজনরা সাহস দিলেও এক পর্যায়ে সবাই যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠে। শাহীনা বেগম ধার দেনা করে চেয়ে চিন্তে অতি কষ্টে অনাহারে অর্ধাহারে জীবন চালাতে শুরু করেন। এমন সময় স্থানীয় মেম্বারের মাধ্যমে চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাত করলে চেয়ারম্যান একটা কাজের ব্যবস্থা করে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। কিছুদিন বাদে আরইআরএমপি-২ লোকের প্রয়োজন দেখা দিলে চেয়ারম্যান তাঁকে উক্ত প্রকল্পে কাজ করার প্রস্তাব করেন। শাহীনা বেগম যেন মহা সাগরের অতল গহ্বর থেকে এক টুকরো আলোর ঝিলিক দেখতে পান। তাই এই আলোটুকুকে ভরসা করে বেঁচে থাকার খোয়াব দেখতে শুরু করেন। প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হলেও বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা প্রমোশনাল রিসার্স এ্যাডভোকেসী ট্রেনিং এ্যাকশন ইয়ার্ড (প্রত্যয়) উক্ত মহিলা কর্মীদের জীবন মান ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নেয়। শাহীনা বেগমের সেই খোয়াবকে পুঁজি করে আর প্রত্যয় এর জীবন দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে একসময় জীবন পরিবর্তনে উৎসাহিত হয়ে উঠে। প্রত্যয় এর প্রতিটি প্রশিক্ষণে তিনি অংশগ্রহন করে শিক্ষালব্দ জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে তির তির করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। শাহীনা নবজাতক শিশুর খাদ্য, গর্ভবতী মা ও কিশোর-কিশোরীর খাদ্য, যত্ন ও পরিচর্যা, রেফারেল হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক, সামাজিক ঝসড়া বিবাদ হ্রাসকরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্যোগ মোকাবেলাঃ অগ্নিকান্ড,ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণীঝড়, নারী নির্যাতন ও প্রতিরোধের আইন, রাস্তায় চলাচলের নিয়ম, খাদ্য ও পুষ্টি এবং মা ও শিশুর পরিচর্যা ও নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছে এবং ইতিমধ্যেই তিনি জীবন মানের বেশ খানিকটা পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে যেমন-একটু একটু করে আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছে, অবাব অনেকটা কমেছে, ছেলে-মেয়েদেরকে স্কুলে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।

শাহীনা বেগমের পরবর্তী ইচ্ছা এক কালীন ৭২,০০০/- টাকা পেলে সেই টাকায় মহামায়া বাজারে একটা ব্যবসা দিবে যা তার পরবর্তি জীবনে চলার পথের সঙ্গী হবে বলে তিনি মনে করেন।